বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
স্পোর্টস ডেস্ক:: সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও স্পেন। বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত ১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে শুরু হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় এই লড়াই।
বিশ্বকাপের অন্যতম দুই ফেবারিটের এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাসে অবশ্য সামান্য এগিয়ে রাখা হয়েছে ফ্রান্সকে।
অপটার ২৫ হাজার সিমুলেশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ। স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ এবং ম্যাচ ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ২৭ দশমিক ১ শতাংশ। একই বিশ্লেষণে ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে ফ্রান্সের সম্ভাবনা ৫৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং স্পেনের ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ ধরা হয়েছে।
এই ম্যাচে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বিশ্বকাপে নিজের ২৬তম ম্যাচে দলের দায়িত্ব পালন করবেন। এর মাধ্যমে তিনি জার্মানির কিংবদন্তি কোচ হেলমুট শ্যোনকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ড গড়বেন।
অন্যদিকে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বড় টুর্নামেন্টে অসাধারণ সাফল্য ধরে রেখেছেন। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে তার অধীনে স্পেন টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ১২ জয় ও ১ ড্র।
কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা ষষ্ঠ জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। এবার তাদের সামনে টানা সপ্তম জয়ের হাতছানি। বিশ্বকাপে ইউরোপের কোনো দল হিসেবে এর আগে শুধু ইতালি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ আসরে টানা সাত ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়েছিল।
এটি ফ্রান্সের অষ্টম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। জার্মানি ১২ বার সেমিফাইনালে উঠে তাদের চেয়ে এগিয়ে আছে। ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৮ ও ২০২২- সর্বশেষ চার সেমিফাইনালেই জয় পেয়েছে ফরাসিরা। এর মধ্যে শেষ তিন সেমিফাইনালে কোনো গোলও হজম করেনি তারা।
এবার জিতলে জার্মানি (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০) ও ব্রাজিলের (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) পর টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়বে দেশমের দল।
ফ্রান্সের আক্রমণভাগের মূল ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবারের বিশ্বকাপে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ১২, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে আগের দুই বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে তিনি গোল করতে পারেননি- এই পরিসংখ্যান কিছুটা ভাবাচ্ছে ফরাসি শিবিরকে।
ওসমান দেম্বেলের সঙ্গে এমবাপ্পের বোঝাপড়াও এবারের বিশ্বকাপে আলোচনায় এসেছে। দুজন মিলে একে অপরের জন্য ১৯টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন।
এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণভাগ অন্যতম শক্তিশালী। কোয়ার্টার-ফাইনালে বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলারের হেড থেকে পাওয়া গোলটিই এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তাদের বিপক্ষে একমাত্র গোল।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করেন মিকেল মেরিনো। এর আগে পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি হিসেবে নেমে গোল করেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুই ম্যাচে জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন মেরিনো।
২০১৮ বিশ্বকাপের পর বড় টুর্নামেন্টে ২৭ ম্যাচ খেলেছে স্পেন। এর মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে তারা। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের কাছে হারের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে লা রোহা। এই সময়ে তারা মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং নয়টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে।
বিশ্বকাপে এটি ফ্রান্স ও স্পেনের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। ২০০৬ সালের শেষ ষোলোতে প্রথম দেখায় ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ১০ মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। তারা জিতেছে সাত ম্যাচে, ড্র হয়েছে একটি এবং ফ্রান্স জিতেছে দুটি ম্যাচে। সর্বশেষ দুই দেখাতেই জয় পেয়েছে স্পেন।
ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ২-১ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। এরপর ২০২৫ সালের নেশন্স লিগের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৪ গোলে জয় পায় লা রোহা।
আজকের ম্যাচে জয়ী দল নিশ্চিত করবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট। তাই ফ্রান্স-স্পেনের এই লড়াইকে অনেকেই টুর্নামেন্টের ‘ফাইনালের আগের ফাইনাল’ হিসেবে দেখছেন।